মঙ্গলবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২২

রিযিকের ব্যাপারে যত সিরিয়াসন্যাস;ইসলাম আমাদের যা বলে!! By Saifullah Md Khaled

 রিযিকের ব্যাপারে যত সিরিয়াসন্যাস;ইসলাম আমাদের যা বলে!!


আমরা রিযিকের ব্যাপারে জাগতিক উপায়-উপকরণের উপর যত তৎপর তার কিঞ্চিৎ যদি নিম্নোক্ত বিষয়াবলীর প্রতি হতাম!!!

আমি জাগতিক চেষ্টা কিংবা উপায় উপকরণকে আদৌ অস্বীকার বা অবহেলা করছি না।কারণ, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন-
وَأَن لَّيْسَ لِلْإِنسَٰنِ إِلَّا مَا سَعَىٰ

আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।
সূরা আন-নাজম ৩৯

কিন্তু ঈমানদারদের বৈশিষ্ট্যতো ভিন্ন।তাঁরাতো তাদের রবের প্রদত্ত ফর্মুলা অনুসরণ করে জাগতিক উপায় উপকরণ দিয়ে প্রচেষ্টা চালাবে।

আমি ফর্মুলাগুলো কয়েকটি গল্পের মাধ্যমে শুরু করি-
আমাদের দ্বীন কত চমৎকারভাবে আমাদেরকে রিযিকের ব্যাপারে শিক্ষা দিয়েছে!

কথা হলো, আমাদের নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ৭(সাত)টি পদ্ধতিতে ওহী নাযিল হতো।যার একটি হলো অন্তরে ঢেলে দেওয়া।যার দৃষ্টান্ত নিম্নের হাদিসখানা।

সাইয়্যিদুনা আবু উমামা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إنَّ رُوحَ القُدُسِ نفثَ في رُوعِي، أنَّ نفسًا لَن تموتَ حتّى تستكمِلَ أجلَها، وتستوعِبَ رزقَها، فاتَّقوا اللهَ، وأجمِلُوا في الطَّلَبِ، ولا يَحمِلَنَّ أحدَكم استبطاءُ الرِّزقِ أن يطلُبَه بمَعصيةِ اللهِ، فإنَّ اللهَ تعالى لا يُنالُ ما عندَه إلّا بِطاعَتِهِ

"রূহুল ক্বুদুস তথা জিবরাইল(আ) আমার অন্তরে এ কথা ফুঁকে/ঢেলে দিলেন যে, কোন আত্মা সে পর্যন্ত মৃ ত্যু বরণ করবে না যে পর্যন্ত তার রিযিক যতটুকু বরাদ্দ রয়েছে তা পুরোপুরিভাবে পেয়ে না যাবে।অতএব আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করো রিযিক অন্বেষণে ভালো পথ অবলম্বন করো।রিযিক পেতে বিলম্ব হওয়ায় আল্লাহ তায়ালার অবাধ্যতার পথ অবলম্বন করো না।কারণ, আল্লাহ তায়ালার নিকট যা রয়েছে তা তাঁর আনুগত্য ছাড়া পাওয়া দুষ্কর।"
সহীহুল জামী-২০৮৫

একইভাবে সহীহ্ বোখারী এবং মুসলিমের একটি হাদিসের অংশ হলো-
"(সন্তান যখন মায়ের পেঠে নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত করে)তখন একজন ফেরেশতা পাঠানো হয়।অতঃপর তিনি রুহ ফুঁকে দেন।এবং তাকে ৪টি বিষয় লিখে দেওয়ার জন্য আদেশ করা হয়।তা হলো ১.রিযিক, ২.বয়স(আজল), ৩.তার আমল এবং ৪. সৌভাগ্যবান কিংবা দুর্ভাগ্যবান।"
বোখারী-৩২০৮,মুসলিম-২৬৪৩

অথচ আমরা এ রিযিক তালাশের জন্যে হালাল-হারাম বা জায়েজ-নাজায়েয কিংবা সু দ-ঘু ষ ইত্যাদি কোন কিছুই যাচাই-বাছাই করিনা।

এখন আসি ২য় গল্পে।গতকাল(১৭ অক্টোবর ২০২২)সিঙ্গাপুর থেকে আমার সুহৃদ ছাত্র রিদওয়ান থেকে সূরা কুরাইশ শুনছিলাম।যখন সে বলল-

فَلْيَعْبُدُوا۟ رَبَّ هَٰذَا ٱلْبَيْتِ

অতএব তারা যেন এ গৃহের রবের ‘ইবাদাত করে,

আমি বললাম, জানেন এই ঘর বলতে কোন ঘর?
তখন, তিনি উত্তর দিলেন- কা'বা ঘর।
আমি বললাম-ঠিক বলেছেন।
আমি তাকে বললাম, আচ্ছা কা'বার রব বা প্রতিপালক কে?
তখন তিনি বললেন-আল্লাহ তায়ালা।
তারপর তিনি বললেন-

ٱلَّذِىٓ أَطْعَمَهُم مِّن جُوعٍ وَءَامَنَهُم مِّنْ خَوْفٍۭ

যিনি ক্ষুধায় তাদেরকে আহার দিয়েছেন আর ভয় থেকে তাদেরকে নিরাপদ করেছেন।

তারপর আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আচ্ছা আমাদেরকে খাবার কে দান করেন আর নিরাপত্তা কে দান করেন?

তখন তিনি বললেন, আল্লাহ।
আমি বললাম,আল্লাহ তায়ালা কি আমাদের খাইয়ে দেন?
তিনি বললেন, না।
অতঃপর আমি বললাম খাবারের গ্রহণের যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেওয়াটাই হলো দান করা।অনেকে আছেন, অর্থের অভাবে খেতে পারেন না আবার অনেকে আছেন অসুস্থতার কারণে খেতে পারেন না।আরও কত কি!
অতএব, আল্লাহ তায়ালা তার খাবার এবং নিরাপত্তা দানের বিষয় বলার আগে একটি আদেশ করেছেন যা তা হলো- 'তাঁর ইবাদাত করা'।(যদিও এখানে কুরাইশ গোত্রের উল্লেখ আছে কিন্তু বিষয়টা আম)
অর্থাৎ রিযিকের সাথে আল্লাহ তায়ালার ইবাদাতের একটি সম্পর্ক আছে।

অথচ, আমরা হন্যে রিযিকের খুঁজে রায‌্‌যাক-কে ভুলে যাই।চাকরির পড়া পড়তে নামাজের খবর থাকে না এমনকি নিচের কাপড়েরও খবর থাকেনা।
(মা'আযাল্লাহ)

অথচ, আল্লাহর কুরআন বলছে-
وَمَن يَتَّقِ ٱللَّهَ يَجْعَل لَّهُۥ مَخْرَجًا

যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরী করে দেন।

وَيَرْزُقْهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُۚ وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى ٱللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ بَٰلِغُ أَمْرِهِۦۚ قَدْ جَعَلَ ٱللَّهُ لِكُلِّ شَىْءٍ قَدْرًا
এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিযক দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয় আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন।
সূরা আত্ব-ত্বালাক ২-৩

আবারও চলে যাই রিদওয়ানের গল্পে-
তার সুরা কুরাইশ মুখস্থের পাশাপাশি দুই সিজদাহর মাঝখানে দু'য়াটিও পড়া ছিলো।
দু'য়াটি হলো-
اللّهُـمَّ اغْفِـرْ لي ، وَارْحَمْـني ، وَاهْدِنـي ، وَاجْبُرْنـي ، وَعافِنـي وَارْزُقْنـي وَارْفَعْـني

হে আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করুন,রহম করুন,হিদায়াত দান করুন,শক্তি/সমর্থন দান করুন,আ'ফিয়াত(রক্ষা করা)দান করুন,রিযিক দান করুন এবং মর্যাদা দান করুন।
O Allah forgive me, have mercy on me, guide me, support me, protect me, provide for me, and elevate me.
Reference: Abu Dawud, Ibn Majah, At-Tirmidhi. See also Al-Albani, Sahih At-Tirmidhi 1/90 and Sahih Ibn Majah 1/148.

Hisn al-Muslim 49

কি আজিব এক মিল! যখন রিযিক দানের আলোচনা এসেছে সূরা কুরাইশে একইভাবে সে রিযিক সন্ধানের দু'য়া শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে নামাজের ভিতরে।
তাছাড়া ইসলাম রিযিকের জন্য আমাদেরকে কত চমৎকার দোয়া শিখিয়ে দিয়েছে!(সকাল বেলা)
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ عِلْماً نَافِعاً، وَرِزْقاً طَيِّباً، وَعَمَلاً مُتَقَبَّلاً (إذا أصبحَ)

O Allah, I ask You for knowledge that is of benefit, a good provision, and deeds that will be accepted. (Recite in Arabic upon rising in the morning.)
Reference: Ibn As-Sunni, no. 54, Ibn Majah no. 925. Its chain of transmission is good (Hasan), Ibn Al-Qayyim 2/375.

Hisn al-Muslim 95
তবে আমাদেরকে পাশাপাশি প্রচেষ্টা অবশ্য চালাতে হবে।
সেই প্রচেষ্টার কথাও আল্লাহ তায়ালা বাতলে দিয়েছেন-
فَإِذَا قُضِيَتِ ٱلصَّلَوٰةُ فَٱنتَشِرُوا۟ فِى ٱلْأَرْضِ وَٱبْتَغُوا۟ مِن فَضْلِ ٱللَّهِ وَٱذْكُرُوا۟ ٱللَّهَ كَثِيرًا لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অতঃপর যখন সালাত সমাপ্ত হবে তখন তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় আর আল্লাহর অনুগ্রহ হতে অনুসন্ধান কর এবং আল্লাহকে বেশি বেশি স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফল হতে পার।
সূরা আল-জুমু'আ ১০

এ-ব্যাপারে শায়খ আব্দুল কাদির জিলানি(রহ)-র একটি বক্তব্য উল্লেখ করছি-

তিনি বলেন,'যে দ্বীনের ব্যাপারে শক্তি চায়, সে যেন আল্লাহ তায়ালার উপরই তাওয়াক্কুল করে। কারণ,তাওয়াক্কুল অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে,শক্তিশালী করে,নীতিবান করে এবং তাকে সঠিক পথের দিশা দেয় ও অনেক বিস্ময়কর বিষয় দেখায়।'সুতরাং আপনি আপনার দিরহাম-দিনারের(টাকা-পয়সা) উপর ভরসা করবেন না।আসবাব-উপকরণের উপর নির্ভর করবেন না।এটা আপনাকে অক্ষম করে দেবে,দুর্বল-অসহায় করে দেবে।আপনি আল্লাহ তায়ালার উপর ভরসা করুন।তিনি আপনাকে শক্তিশালী করবেন, আপনাকে সর্বাবস্থায় সাহায্য করবেন।আপনার প্রতি দয়ালু হবেন।আর আপনার জন্য রিজিকের দরজা এত প্রশস্ত করে দেবেন,যা আপনার ধারণাতেও নেই।(আল-ফাতহুর রাব্বানি:১৩৪)
-শায়খ আব্দুল কাদির জিলানি লেখক- আলি মুহাম্মাদ সাল্লাবি পৃ-৮৭

সর্বশেষ কথা হলো-
উপরের ফর্মুলা অনুসরণ করে আমাদের মেধা,যোগ্যতা,দক্ষতা এবং আগ্রহকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে।তাহলে রিযিকের সফলতা আসবে,ইন শা আল্লাহ।

শনিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২২

তাজবিদ ক্লাস;নূন সাকিন ও তানবিনের বিধান একত্রে Noon Sakin o Tanween er b...

কায়দা ক্লাস;তাশদীদের ব্যবহার ১ম পর্ব Tashdeeder bebohar 1st part

Juz-6 Surah Al-Ma'ida(1-13) by @Saifullah Md Khaled

কায়দা ক্লাস;মাদ্দের হরকত,মাদ্দের হরফ এবং লীনের হরফের ব্যবহার ৩য় পর্ব