শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯

একটি বৈপ্লবিক শিক্ষা
এস. এম. খালেদ
আপনারা ধারণা করছেন, “এ লেখা হয়তো আমার জানা কোন পশ্চিমা দেশ কিংবা বিখ্যাত রুশ বিপ্লবের কথাই লিখবে”।আদৌ তা নয়।আমি  আজ লিখছি এমন  এক বিপ্লবের কথা যা আপনি জানেন; তবে বিপ্লব হিসেবে নয়।আসলে তা বিপ্লব বলার কারণও নেই।কেননা, আমরা তাকে বিপ্লবের সংজ্ঞায় লালন করিনা।অথচ সেটাই আসল বিপ্লব,যা কোন জোর-জবরদস্তি ব্যতিরেখে ‍,কেবল দৃশ্যত নয় বরং অদৃশ্যত মনের গহিনেও বিপ্লব ঘটিয়েছিল।আপনারা হয়তো এখনও বলতে পারেন এ কী আজগুবি কথাই বলছে।তা নিশ্চয়ই আপনারা শুনেছেন, ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা সায়্যিদুনা ওমার ইবনুল খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কথা।ঠিক ধরেছেন, যিনি  মক্কার বিখ্যাত কুরাইশ বংশে ইসলামের প্রচার-প্রসারক সর্বশেষ নবী রহমাতুল্লিল আ’লামীন মুহাম্মদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ১৩ বছর পর ৫৮৩ সালে,বাবা খাত্তাব ইবনে নুফাইলের ঔরশে,মাতা হানতামা বিনতে হিশামের গর্ভে জন্ম গ্রগণ করেন।ইনিই সেই ব্যক্তি যিনি ৬১০ সালে নুবুয়্যাত  পাওয়া মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে,তাঁর নতুন দ্বীন প্রচারের কারণে হত্যার উদ্যেশ্যে বের  হয়েছিলেন।হত্যাতো করতেই পারলেন না বরং নিজেও কুরআনের ছায়াতলে চলে েএসেছিলেন ৬১৬ সালে।কেবল তাতো নয় বরং যাকে হত্যা করতে এসেছিলেন তাঁর রক্ষকে পরিণত হয়ে  গিয়েছিলেন।এমনকি তিনিই হয়েছিলেন পরবর্তীতে দ্বীনের ধারক-বাহক,পুরো দুনিয়ার ধারক বললে অত্যুক্তি হবে না।তিনিই পরিণত হয়েছিলেন সোনার মানুষে।কেবল তা নয়, যে সময় ইসলামের দয়াল নবীর আবির্ভাব সে সময় কেবল আরবে জাহিলিয়্যাত চলছিল তা নয়।বরং সর্ববিশ্বব্যাপী চলছিল, হানাহানি আর ত্রাসের রাজত্ব।আরব ছিলো চুড়ান্ত পর্যায়ের বর্বর।তারা নারীকে মানবজাতিতে গণ্য করতো না বরং ভোগ্য পণ্য হিসেবেই বিবেচনা করতো।তখনকার কন্যার বাবারা সমাজে ঘৃণিত হতো।অনেক বাবা নিজ হাতে কয়েক হালি কন্যাকে জীবন্ত গ্রোথিত করেছে।নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  মহান রবের সেই অমিয়বাণী প্রাপ্তির পর, সেই সমাজকে পরিণত করেছিলেন সোনারসমাজে, আবির্ভাব ঘটিয়েছিলেন এক সোনালিযুগের।যখন মহিলারা একাকি ঘুরতে পারতো,সানায়া থেকে হাজারামাউত পর্যন্ত নির্ভয়ে।এসবকি বিপ্লব নয়?এ বিপ্লব এসেছিলো কেবল কোরআনের মাধ্যমে।এতে এমন শিক্ষাই রয়েছে যা মানুষের নিজস্ব স্বভাবের দিকে ঠেলে দেয়।যা প্রকৃতির সাথে খাপ খেতে সহযোগিতা করে।আর এ কোরআনের শিক্ষাই বিপ্লব ঘটিয়েছিলাে ওমার রা. এর মাঝে,তা বিপ্লব এনেছিলো আরব বর্বর সমাজে, তা বিপ্লব এনেছিলো আবিসিনিয়িার(বর্তমান -ইথিওপিয়া) নাজ্জাসীর দরবারে।আমরাও যদি একটি বিপ্লবের আশাকরি তাহলের এ কুরআনের শিক্ষার কোন বিকল্প নেই।
এটি এমন বিপ্লব যা তরবারির আঘাতে ঠেকা যায় না।
এটি এমন বিপ্লব যা রাইফেলের বাট দিয়ে ঠেকা যায় না।
এটি এমন বিপ্লব যা বোমার আঘাতে ধুলিস্য়াত হয় না।
এটি এমন বিপ্লব যার শিকড় কখনো উপড়ে ফেলা যায় না।
এটি এমন বিপ্লব যার প্রশস্ততা আসমান পর্যন্ত বিরাজমান।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন