<script async src="https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-2451573890300033"
crossorigin="anonymous"></script>
আন্তর্জাতিক ক্বু-দস সপ্তাহ;মসজিদে আ-ক্ব=সারই সংগ্রাম
সাইফুল্লাহ
মুহাম্মদ খালেদ মহাসচিব- ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশন
আরবি
মাসের ৭ম মাস রজব, যা সম্মানিত ৪টি মাসের অন্তর্ভূক্ত।রজব মাস আমাদেরকে রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লামের অন্যতম মুজিজা ইসরা এবং মিরাজকে স্মরণ করিয়ে দেয়।কারণ,
ইসরা এবং মিরাজ সংঘটিত হওয়ার ব্যাপারে প্রসিদ্ধ মত হলো এ রজব মাস।সেটা যাই হোক ইসরা
বলতেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লামের মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আক্বসা
পর্যন্ত নৈশসফরকে বুঝানো হয়।তাতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।যেহেতু এব্যাপারে স্বয়ং
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা-
سُبْحَـٰنَ
ٱلَّذِىٓ أَسْرَىٰ بِعَبْدِهِۦ لَيْلًۭا مِّنَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ إِلَى
ٱلْمَسْجِدِ ٱلْأَقْصَا ٱلَّذِى بَـٰرَكْنَا حَوْلَهُۥ لِنُرِيَهُۥ مِنْ
ءَايَـٰتِنَآ ۚ إِنَّهُۥ هُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلْبَصِيرُ
পবিত্র ও
মহিমাময় তিনি যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ
করিয়েছিলেন মাসজিদুল হারাম হতে মাসজিদুল আকসায়, যার
পরিবেশ আমি করেছিলাম বারাকাতময়, তাকে আমার নিদর্শন দেখানোর জন্য; তিনিই
সর্বশ্রোতা,
সর্বদ্রষ্টা।[1]
যার পরিবেশের
বরাকাহ সম্পর্কে তাফসীরে মারেফুল ক্বোরআনে
উল্লেখ করা হয়েছে- “যার পরিবেশের বারাকাহসমূহ দ্বিবিধ: ধর্মীয়
ও পার্থিব।ধর্মীয় বারাকাহ এই যে, এ ভূ-ভাগটি পূর্ববর্তী সব পয়গম্বরের ক্বিবলা, বাসস্থান
এবং সমাধিস্থান।জাগতিক বরকত হচ্ছে যে, এর উর্বর ভূমি, অসংখ্য ঝরণা ও বহমান নদ-নদী
এবং অফুরন্ত ফল-ফলাদির বাগানাদি।বিভিন্ন ধরণের সুমিষ্ট ফল উৎপাদনে এ অঞ্চলটির তুলনা
সত্যিই বিরল ।“[2]
রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলইহি ওয়াসাল্লামের
হাদীসের মধ্যেও এর বিবিধ
বারাকাহ এবং গুরুত্বের কথা বর্ণিত হয়েছে। যেমনটা
বর্ণিত হয়েছে-
[عن ميمونة مولاة النبي ﷺ:]
الصلاةُ في بيت المقدس كألفِ صلاةٍ في غيره.[3]
হযরত
মাইমুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- ”বায়তুল মুক্বাদ্দাসে ১বার নামাজ
আদায় করা অন্যান্য মসজিদে ১০০০বার নামাজ
আদায় করার সমান।”
যদিও
ভিন্ন রেওয়ায়াতে ৫০০নামাজের সমানও বলা হয়েছে।
আরেকটি
বর্ণনায় এসেছে-
[عن ميمونة مولاة النبي ﷺ:]
أفتِنا في بيتِ المقدسِ [قال] أرضُ المحشرِ والمنشَرِ
…[4]
হযরত
মাইমুনাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত- (ইয়া রাসূলুল্লহ) আমাদেরকে বায়তুল
মুকাদ্দস সম্পর্কে অবহিত করুন।তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু
আলইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, ”এটা হাশর-নশরের ভুমি।”
এভাবে আরও অনেক বর্ণনা রয়েছে।
প্রিয়
ঈমানদার ভাইয়েরা,
এই
ক্বুদস আমরা মুসলমানদের পূণ্যভূমি।এই মসজিদুল আক্বসা আল্লাহ তায়ালার অন্য়তম
নিদর্শন।এটা আমাদের ১ম ক্বিবলা।এই ভূমি আমাদের কলিজা।আজ আমাদের সেই কলিজা ভালো
নেই।অথচ আমরা জেগে জেগে ঘুমাচ্ছি।১৯১৭ সালের ২রা নভেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব জেমস বেলফোর ঘোষণার
মাধ্যমেই আমাদের কলিজাতে ক্ষত সৃষ্টি হয়।যা ছিলো মূলত বর্তমান সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইজরাইলের বীজ বপন।যা আজকে আমাদের
কলিজাকে ক্ষত-বিক্ষত করে ফেলছে।কেবল তাতেই ক্ষান্ত নয়, ২০২০ সালের ২৮জানুয়ারী
সাবেক মা=র্কিন প্রেসি=ডেন্ট ডো-নাল্ড ট্রা-ম্প
ডিল অব দ্যা সে=ঞ্চুরির (Deal of the century) মাধ্যমে মু-সল=মানদের কলি-জাকে
ছি=নিয়ে নেওয়ার ঘোষনা দেন।মূলত এ চুক্তি ছিল শতবর্ষের সবচেয়ে নি0র্বোধ চুক্তি। যে চুক্তির
মাধ্যমে শিয়ালকে মুরগির দায়িত্ব কিংবা বাঘকে হরিণের অভিভাবকত্ব দেওয়ার নামান্তর। যা
প্রকারান্তরে ইজরাঈলের স-ন্ত্রা=সী এবং জু-লুমী কর্মকান্ডকে বৈধতা দেওয়ার নামান্তর।
এ শতবর্ষের সবচেয়ে নির্বোধ চুক্তিতে বলা হয়েছে-
Ø পশ্চিম তীর এবং গাজ্জা উপত্যকা
নিয়ে নতুন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হবে।
Ø গাজ্জার ক্ষমতাসীন স=শস্ত্র
সংগঠন হামাস ইসরাঈলী কর্তৃপক্ষের কাছে তাদের অ-স্ত্র জমা দিবে।
Ø পশ্চিম তীরের বসতিগুলো নিয়ন্ত্রণ
থাকবে ইসরাঈলের হাতে।
Ø জেরুজালেম হবে নতুন ফিলিস্তিন
এবং ইসরাঈলের যৌথ রাজধানী।
Ø নবগঠিত ফিলিস্তিনের সামরিক
বাহিনী থাকবেনা। ইসরাঈলী নিরাপত্তা বাহিনী অর্থের বিনিময়ে নতুন ফিলিস্তিনের নিরাপত্তা
নিশ্চিত করবে।
Ø নতুন ফিলিস্তিনের নাগরিকদের
জন্যে মিসরের দেয়া জমিতে গড়ে উঠবে বিভিন্ন কল-কারখানা।[5]
এ ঘোষণাটি কেবল মি. ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার জায়োনিস্ট
সাঙ্গু-পাঙ্গুরা গ্রহণ করেন।যাকে বেলফোর ঘোষণাকে জঘন্যভাবে নবায়নকরা হয়েছে বলা চলে।এ
ঘোষণাটি ফিলিস্তিনি সহ সকল বিবেকবান মানুষ প্রত্যখান করেছেন।
ফিলিস্তিন এবং ক্বুদসের স্বাধীনতা এবং সার্বভৗমত্বকে
ফিরিয়ে আনতে আর এব্যাপারে বিশ্বসচেতনতা এবং বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে ফিলিস্তিন ওলামা
পরিষদ ২০২০ সালে একটি বার্ষিক ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা করে।যার আলোকে প্রতি বছর
আরবি রজব মাসের শেষ সপ্তাহে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে এই ক্যাম্পেইনটি পালিত হয়।যা কেন্দ্রীয়ভাবে
পরিচালনা করে ফিলিস্তিন ওলামা পরিষদ। বাংলাদেশেও এর অংশ হিসেবে ইন্তিফাদা
ফাউন্ডেশন এর কার্যক্রম পরিচালনা করে।যদিও বিগত দু’বছর ইন্তিফাদা ফাউন্ডেশন
এর বর্তমান সভাপতি মুহাইমিনুল হাসান রিয়াদ ভাই এককভাবে সম্পন্ন করেছিলেন।
সম্মানিত শ্রোতাবৃন্দ,
আমরা জানি, একটা ফাউন্ডেশন বা সংগঠন একা একা হয় না প্রয়োজন
পড়ে জনবলের,অর্থের,শ্রমের।তাই আসুন অন্তত নিজেদেরকে দায়মুক্ত করার প্রয়োজনে হলেও ক্বুদসের
জন্যে কাজ করি।হয়তো যে ক্বুদসের এলাকা হাশর-নশর হবে বলে হাদীসে এসেছে, সেই মসজিদ এবং
হাশরের মাঠ ওই হাশরের দিন আমাদের বিরুদ্ধে নালিশ করবে তখন আপনি আমি কীভাবে রেহাই পাব?
চলুন আমরা আমাদের সামর্থ্যানুযায়ী চেষ্টা শুরু করি।আমরাইতো সুলতান সালাহ উদ্দিন আইয়ুবী(রহ.)
আর শহীদ ফাদি আবু সালাহর উত্তরসূরী।শহীদ ফাদি আবু সালাহ, যিনি ইজ-রাঈলী স=ন্ত্রা0সীর বিরুদ্ধে
লড়াই করতে করতে পা হারিয়েছিলেন, পরবর্তীতে আবার সেই পাহীন অবস্থায় লড়াই করতে করতে শাহাদাতের
পেয়ালা পান করেছেন।
পরিশেষে আমরা আমাদের ধর্মপ্রাণ জনগণের শাসকদের কাছে উদাত্ত আহ্বান/ দাবী জানাই যেন
ক্বুদসের পক্ষে কাজ করতে সরকারীভাবে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়।এবং আমাদের স্কুল,কলেজ
এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকসমূহে দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্যের পাশাপাশি মুসলামনদের
১ম ক্বিবলা মসজিদে আক্বসার ইতিহাস অন্তর্ভূক্ত করা হয়।
الارض لنا والقدس لنا والله بقوته معنا
জমিন আমাদের, ক্বুদস
আমাদের আর আল্লাহ তায়ালা রয়েছেন শক্তি দিয়ে আমাদের সাথে।
[1] সূরা বনী
ইসরাঈল ০১
[2]. তাফসীর মারেফুল ক্বোরআন,পৃ-৭৬৬
[3] الرباعي
(ت ١٢٧٦)، فتح الغفار ٥٣٠/١ • إسناده حسن
[4] العراقي
(ت ٨٠٦)، تخريج الإحياء ١/١٥٧ • إسناده جيد
[5] আন্তর্জাতিক কুদস সপ্তাহ বাংলাদেশ ২০২১
ডকুমেন্টারি বুক
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন